জবুর 50
হযরত আসফের কাওয়ালী।
1শক্তিশালী মাবুদ, আল্লাহ্মাবুদ, কথা বলেছেন;
পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত
দুনিয়ার সবাইকে তিনি ডাক দিয়েছেন।
2সিয়োন থেকে, পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের জায়গা থেকে,
আল্লাহ্র নূর ছড়িয়ে পড়েছে।
3আমাদের আল্লাহ্আসছেন, তিনি মুখ খুলবেন;
আগুন তাঁর আগে আগে
সব কিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে চলবে;
আর তাঁর চারপাশে ভীষণ ঝড় বইবে।
4তাঁর নিজের বান্দাদের বিচারে অংশ নেবার জন্য
উপরের আসমানকে তিনি ডাক দিচ্ছেন,
আর ডাক দিচ্ছেন দুনিয়াকে;
5তিনি বলছেন, “আমার সেই ভক্তদের আমার কাছে জমায়েত কর,
যারা পশু-কোরবানীর মধ্য দিয়ে
আমার স্থাপন করা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”
6আসমান তাঁর ন্যায়বিচারের কথা ঘোষণা করছে,
কারণ আল্লাহ্নিজেই বিচারক।
7“হে আমার বান্দারা, শোন, আমি কথা বলছি;
হে ইসরাইল, আমি তোমার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছি;
আমি আল্লাহ্, তোমারই আল্লাহ্।
8তোমার পশু-কোরবানী নিয়ে আমি তোমাকে দোষী করছি না;
তোমার পোড়ানো-কোরবানী সব সময়ই তো আমার সামনে রয়েছে।
9তোমার গোয়ালের কোন ষাঁড়ের আমার দরকার নেই,
তোমার খোঁয়াড়ের ছাগলও নয়;
10কারণ বনের সব প্রাণীই আমার,
অসংখ্য পাহাড়ের উপরে ঘুরে বেড়ানো পশুও আমার।
11এমন কি, পাহাড়ের সব পাখীও আমার জানা আছে,
মাঠের সব প্রাণীও আমার।
12আমার খিদে পেলেও আমি তোমাকে বলতাম না,
কারণ দুনিয়া আমার
আর তার মধ্যে যা কিছু আছে সবই আমার।
13তুমি কি মনে কর ষাঁড়ের গোশ্ত আমার খাবার?
ছাগলের রক্ত কি আমি খাই?
14আল্লাহ্র কাছে তোমার শুকরিয়াই তোমার কোরবানী হোক;
সেই মহানের কাছেই তোমার সব মানত পূরণ করতে থাক।
15তোমার বিপদের দিনে তুমি আমাকে ডেকো;
আমি তোমাকে উদ্ধার করব
আর তুমি আমাকে সম্মান করবে।”
16কিন্তু আল্লাহ্দুষ্ট লোকদের এই কথা বলেন,
“আমার শরীয়তের কথা বলার
কিংবা আমার ব্যবস্থার কথা মুখে আনার
তোমার কি অধিকার আছে?
17তুমি তো আমার শাসন ঘৃণা কর
আর আমার কথার ধার ধারো না।
18চোরকে দেখলে তুমি তাকে সায় দাও,
জেনাকারীদের সংগে মেলামেশা কর।
19খারাপ কথায় তোমার মুখ খোলা,
তোমার জিভ্ছলনার বশে থেকে কথা বলে।
20তুমি বসে বসে তোমার নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে
কথা বলে থাক আর তার নিন্দা কর।
21এ সবই তুমি করেছ, কিন্তু আমি মুখ খুলি নি;
তুমি ভেবেছ আমি তোমারই মত একজন,
কিন্তু আমি তোমার দোষ দেখিয়ে দেব
আর তোমার সব কিছু তোমার চোখের সামনে পর পর তুলে ধরব।
22“তোমরা যারা আল্লাহ্কে ভুলে গেছ কথাটা একবার ভেবে দেখো;
তা না হলে আমি তোমাদের ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলব,
তোমাদের বাঁচাবার কেউ থাকবে না।
23যার জীবনে শুকরিয়াই হল তার কোরবানী
সে-ই আমাকে সম্মান করে;
যে আমার পথে চলে তাকে আমি উদ্ধার করব।”
