জবুর 77

কাওয়ালী পরিচালকের জন্য। যিদূথূনের নমুনায়। হযরত আসফের কাওয়ালী।
1আমি চিৎকার করে আল্লাহ্‌র কাছে কাঁদছি;
আমি আল্লাহ্‌র কাছে চিৎকার করছি
যেন তিনি তা শুনে জবাব দেন।
2বিপদের দিনে আমি মালিককে ডাকলাম;
রাতের বেলা আমার হাত দু’টা আল্লাহ্‌র দিকে
বাড়ানোই থাকত, আমি ক্লান্ত হতাম না;
আমার অন্তর সান্ত্বনা পেত না।
3আমি যখন আল্লাহ্‌র কথা ভাবতাম তখন দুঃখে কোঁকাতাম;
ভাবতে ভাবতে আমি নিরাশ হয়ে পড়তাম। [সেলা]
4তুমিই আমার চোখের পাতা খোলা রাখতে;
আমি খুব অস্থির হয়ে পড়তাম,
তাই কথাও বলতে পারতাম না।
5অনেক পুরানো দিনের কথা আমি ভাবতাম,
ভাবতাম অনেক অনেক বছর আগেকার কথা।
6রাতের বেলায় আমার সব কাওয়ালীর কথা আমার মনে পড়ত;
আমি অন্তরে গভীরভাবে চিন্তা করতাম
আর মনে মনে প্রশ্ন করতাম-
7মালিক কি চিরদিনের জন্য আমাদের ত্যাগ করেছেন?
তিনি কি আমাদের আর কখনও রহমত করবেন না?
8তাঁর অটল মহব্বত কি চিরদিনের জন্য শেষ হয়ে গেল?
তাঁর ওয়াদাও কি চিরকালের জন্য বিফল হয়ে গেল?
9আল্লাহ্‌কি রহমত করতে ভুলে গেলেন?
তিনি কি রাগে তাঁর মমতা বন্ধ করে দিলেন? [সেলা]
10আমি বললাম, “এটাই আমার দুঃখ যে,
আল্লাহ্‌তা’লার ডান হাতখানা বদলে গেছে।”
11মাবুদের সব কাজের কথা আমি মনে করব;
হ্যাঁ, মনে করব পুরানো দিনে তোমার করা
কুদরতি কাজের কথা।
12তোমার সমস্ত কাজের বিষয়ে আমি ধ্যান করব;
তোমার সব কাজের কথা ভেবে দেখব।
13হে আল্লাহ্‌, তোমার চলার পথ পবিত্র;
আমাদের আল্লাহ্‌র মত মহান কি কোন দেবতা আছে?
14তুমিই সেই আল্লাহ্‌যিনি কুদরতি দেখিয়ে থাকেন;
সব জাতির মধ্যে তোমার শক্তির পরিচয় তুমি দিয়েছ।
15তুমি তোমার বান্দা ইয়াকুব ও ইউসুফের বংশধরদের
তোমার শক্ত হাতে মুক্ত করেছ। [সেলা]
16হে আল্লাহ্‌, সাগরের পানি তোমাকে দেখেছিল;
তোমাকে দেখে পানি অস্থির হয়ে উঠল,
তার গভীর তলা পর্যন্ত কেঁপে উঠল।
17মেঘ পানি ঢেলে দিল, আকাশে বাজের গর্জন হল;
তোমার বিদ্যুতের তীর এখানে ওখানে চম্‌কাতে লাগল।
18ঘূর্ণিঝড়ে তোমার বাজের শব্দ শোনা গেল,
তোমার বিদ্যুতের ঝলক্‌দুনিয়া আলোময় করল;
দুনিয়া কাঁপল ও টলমল করে উঠল।
19সাগরের মধ্য দিয়ে তুমি পথ করে দিলে,
গভীর পানির মধ্য দিয়ে তুমি পথ করে দিলে,
কিন্তু তোমার পায়ের চিহ্ন সেখানে দেখা যায় নি।
20মূসা ও হারুনকে দিয়ে ভেড়ার পালের মত করে
তুমি তোমার বান্দাদের চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিলে।